বাসস
  ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৮
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৭

রংপুরে একই পরিবারের ৪ সদস্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

ছবি : বাসস

রংপুর, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সিআইডি ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় রাতভর অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে।

তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আজ (রোববার) বিকেলে নিজের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এ তথ্য প্রকাশ করেন।

এর আগে, শনিবার রাতে পুলিশ নগরীর রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে এক শিক্ষকসহ তার পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতরা হলেন-রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), কন্যা আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।

আত্মীয়রা বেশ কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পরে, দমকল বাহিনীর সহায়তায় পুলিশ তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে লাশগুলো উদ্ধার করে।

আরপিএমপির পুলিশ উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে।

তারা হলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ২৪ নং ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস সম্পর্কে আত্মীয়। তারা এবং ভুক্তভোগী পরিবার একই এলাকায় বসবাস করত। তারা একে অপরকে চিনত।

সিদ্ধার্থ নগরীর একটি স্বর্ণের দোকানে এবং মুগ্ধ একটি মাছের দোকানে কাজ করত।

আরপিএমপি কমিশনার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, চার দিন আগে রাতের বেলা নিহতের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় ওই শিক্ষক বাধা দেওয়ায় তারা একে একে চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

দুষ্কৃতকারীরা প্রথমেই ওই শিক্ষকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। তার আর্তনাদ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করেন। এসময় দুর্বৃত্তরা সিঁড়িতেই তার গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে তাকেও হত্যা করে।

পরে, মায়ের আর্তনাদ শুনে বড় মেয়ে আগামী চক্রবর্তী যখন ওপরে ওঠার চেষ্টা করলেন তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

আরপিএমপি কমিশনার বলেন, এরপর শিক্ষকের ঘুমন্ত ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও হত্যা করে। পরিবারের চারজনকে হত্যার পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ওই বাড়িতেই অবস্থান করে এবং গোসল করে। পরে, তারা শসা ও খেজুর খায় এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করে।

ঘটনাটিকে অন্য দিকে ঘোরানোর জন্য তারা বাড়ির আসবাবপত্রগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখে। তারা একটি স্বর্ণের চুড়ি আসল না নকল তা পরীক্ষা করার জন্য ঘরের মধ্যে বসেই পুড়িয়েছিল। আঙ্গুলের ছাপ যাতে না থাকে সেজন্য বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রেখে দেয়।

আরপিএমপি প্রধান বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা হলে তারা বাড়িটি থেকে বেরিয়ে যায়।

তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে আরও তথ্য জানাতে তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হবেন।

শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী এই ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।