বাসস
  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫১

মাছের ঘাটতি মেটাতে ১৬ নদীতে পোনা অবমুক্তের আহ্বান কুড়িগ্রামের ডিসির 

ছবি : বাসস

কুড়িগ্রাম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোনা অবমুক্তের আহ্বান জানিয়েছেন। নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণের পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা রোধ করতে পারলে জেলায় মাছের ঘাটতি দূর হয়ে কুড়িগ্রাম একটি মৎস্য উদ্বৃত্ত জেলায় পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সুলতানা সরোবরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘স্বপ্নকুঁড়ি’তে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ জেলায় প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীতে নিয়মিত ও ব্যাপকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। 

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামে পালিত জাতীয় মৎস্য পক্ষের আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় জেলা মৎস্য খাতের সার্বিক পরিসংখ্যান ও নদ-নদীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুড়িগ্রামের ১৬ হাজার হেক্টর আয়তনের নদ-নদীগুলো কেবল পানির উৎস নয়, এগুলো প্রাকৃতিক দেশীয় মাছের মূল প্রজননক্ষেত্র। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদী ভরাট এবং প্রজনন মৌসুমে অবাধে মা মাছ ও পোনা শিকারের কারণে অনেক দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, জেলায় বর্তমানে বছরে ৪৯ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হলেও চাহিদা রয়েছে ৫১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে বছরে প্রায় ১ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। বক্তাদের মতে, কেবল আবদ্ধ পুকুর বা বরোপিটে চাষের ওপর নির্ভর না করে যদি ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের মতো মূল নদীগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা যায়, তবে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ ড. সাইফুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আজাদুন্নবী শামীম এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদ।

আলোচনা শেষে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নদ-নদীতে কারেন্ট জাল বা চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার না করার এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা পোনা মাছগুলোকে পরিণত হওয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।