বাসস
  ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৫
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৭

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবি সাংবাদিক নেতাদের

ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএফইউজে ও ডিইউজের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

আজ (বুধবার) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র‌্যালি ও সমাবেশে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

র‌্যালি শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।

র‌্যালি ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।

র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক সাজান সাজু, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ ও এইচ এম আলামিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি এবং সাংবাদিক নেত্রী মাসুদা আক্তার।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই বিজয় র‌্যালিতে শহীদ, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে সাংবাদিকদের স্লোগানে পুরো রাজপথ মুখর হয়ে ওঠে।

ডিইউজের সাংবাদিক নেতা দিদারুল আলম দিদারের স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনতাও আওয়াজ তোলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা আমাদের প্রেরণা, জুলাইয়ের রক্ত আমাদের শক্তি’; ‘জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’; ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই, দিতে হবে’ এবং ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’।

সমাবেশে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য ছাত্র, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে হলে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর সাহস পাবে না।

সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকতে হবে।

ডিইউজের সভাপতি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা ও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার আগে আন্দোলন চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে ছয়জন সাংবাদিক ছিলেন এবং আন্দোলনের সময় সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিক আহত হন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের আপস বা শৈথিল্য নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের।

ডিইউজের সভাপতি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। অসমাপ্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।