বাসস
  ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪০

নেত্রকোণার কাকন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

নেত্রকোণা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আলোচিত কাকন হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ও মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রশিদকে (৩৩) রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টানা ২ দিনের সফল অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার মধ্যরাতে বাসস’কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। 

তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ গতকালই আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আল মামুন আরো জানান, নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় গত ১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘কে’ ব্লকের ২২ নম্বর রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেন থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, এ এস আই আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল নাহিদ হাসান খাঁন এবং  এ এস আই (নিরস্ত্র) মো. আবুল হোসেন।

তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে কুমিল্লা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল টানা ২ দিন অভিযান চালিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তর আব্দুর রশিদ পূর্বধলা উপজেলার দাপুনিয়া সেহড়া ডুয়ারী গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় ভিকটিম কাকন মিয়া স্থানীয় দাপুনিয়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্বধলা থানাধীন দাপুনিয়া সাকিনস্থ খেলন মিয়ার বাড়ির উত্তর কোণের রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামি আব্দুর রশিদ, তার ভাই আব্দুর রহিম এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ধারালো অস্ত্র চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও রামদা দিয়ে কাকন মিয়াকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহত কাকন মিয়ার ভগ্নিপতি মাসুদ আল মামুন বাদী হয়ে আব্দুর রশিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা পূর্বে গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রশিদ ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যায়। 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সে দেশের সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল এবং গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন মোবাইল সিম ও হ্যান্ডসেট পরিবর্তন করে আসছিল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় পূর্বধলা উপজেলাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপারসহ পূর্বধলা থানা পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন।