বাসস
  ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৪

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতাই চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার ডিওএইচএস-এর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল দর্শন একই সুতায় গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি আরও বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই ফসল হচ্ছে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান।’

আজ (শনিবার) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস-এ রাওয়া ক্লাবের অ্যাঙ্কর হলে আয়োজিত ‘রিমেম্বারিং জুলাই-২০২৪: রিমেম্বারিং দেয়ার সেক্রিফাইস, ইন্সপায়ারিং আওয়ার ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশন এবং নাগরিক কণ্ঠ ফোরাম যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার যুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে যতবারই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এসেছে, সাধারণ মানুষ ততবারই তা প্রতিহত করেছে। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে এসে স্বৈরাচারবিরোধী চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল উৎসবিন্দু হচ্ছে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ; এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

ইতিহাস বিকৃতির পরিণতি সম্পর্কে আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্বকে দলীয়করণ বা ফ্যাসিবাদের হাতিয়ারে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ইতিহাস তার নিজস্ব নিয়মে সত্যকে তুলে ধরে। জুলাই অভ্যুত্থানও কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের একক সম্পদ নয়; এটি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের পাহাড়ি-সমতল, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকল মানুষের সহাবস্থানের আন্দোলন।’

জনগণের রায়ে গঠিত নির্বাচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটে গঠিত। সরকার হিসেবে আমরা অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছি। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় পুনর্বাসন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কোনো অনুকম্পা নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজপথ ও অনলাইনে কৃত্রিম নাটক বানিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে। সংঘাতের পথ ছেড়ে সবাইকে এখন সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ ও মাহমুদা হাবিবা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস. আবদুল হান্নান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা তাদের স্মৃতি ও অনুভূতি তুলে ধরেন।