বাসস
  ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১০

ফেনীতে কন্যা শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ভিডিও ধারণ; যুবক গ্রেপ্তার

ফেনী, ৩১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ফেনীতে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৬ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ভিডিও ধারণ করে তা টিকটকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন ওরফে হোসাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে সন্ধ্যায় শহরতলীর লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোজাম্মেল কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ইউনিয়নের উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দু’জন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করে। তারা শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অপর একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে পোস্ট করে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরদিন ভুক্তভোগী মেয়ে ঘটনাটি তার বাবাকে জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বাসস’কে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আটক মোজাম্মেল হোসেনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।