বাসস
  ৩১ জুলাই ২০২৬, ২১:৩২

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন দুঃস্থ ফিরোজা, বিধবা মেয়ের চাকরি 

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ‘আমি কোনোদিন ভাবিনি জীবনের এই বয়সে নতুন একটা ঘরে থাকতে পারব। এতদিন বৃষ্টি হলেই সারা রাত ঘুমাতে পারতাম না। এখন মনে হচ্ছে আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন,’ চোখে আনন্দের অশ্রু নিয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন দুঃস্থ ফিরোজা বেগম।

৬৫ বছর বয়সী ফিরোজা বেগম। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, তবু জীবনের সঙ্গে তার লড়াই থেমে নেই। মরিচা ধরা জরাজীর্ণ টিনের ঝাপড়ি আর সামান্য বৃষ্টিতে চুঁইয়ে পড়া পানির নিচে কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবশেষে ঘুচেছে তার সেই মানবেতর দিনগুলোর কষ্ট।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর মহতী উদ্যোগে মাথা গোঁজার নতুন ঘর পেয়েছেন এই অসহায় নারী। শুধু তাই নয়, তার বিধবা মেয়ের জন্যও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার দশালিয়া গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম। প্রায় ৩৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার অন্তহীন সংগ্রাম। স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র এক শতাংশ জমিতে জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। বয়সের ভারে নিজে আর ভিক্ষা করতে না পারতেন না। মেয়ে শামসুন্নাহার ভিক্ষা করে দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতেন। সামান্য বাতাসেও দুলে ওঠা ঘরটিতে চরম আতঙ্ক আর কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটত তাদের দিন ও রাত।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী এমদাদুল হক বিষয়টি প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতকে জানান। খবর পেয়ে ইউএনও ছুটে যান ফিরোজার জরাজীর্ণ বাড়িতে। পরে তিনি বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে অবহিত করেন। 

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও সহযোগিতায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে ফিরোজা বেগমের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। 

দীর্ঘদিনের ভয় ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এখন শান্তিতে শেষ জীবন কাটাতে চান ফিরোজা বেগম। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমার জন্য এই ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আমি নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানান, ফিরোজা বেগমের ঘরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তার বিধবা মেয়ে শামসুন্নাহারের চার সন্তানের কষ্টের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শামসুন্নাহারের জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন।

স্থানীয় জনগণ এই মানবিক উদ্যোগের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।