বাসস
  ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪৪

রাঙামাটিতে আষাঢ়ী পূর্ণিমা পালিত

জেলায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ আষাঢ়ী পূর্ণিমা পালন করেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ছবি : বাসস

রাঙামাটি, ২৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ আষাঢ়ী পূর্ণিমা পালন করেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

এ উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে রাঙামাটির আনন্দ বিহার, মৈত্রী বিহার, বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাঙামাটি রাজ বনবিহারের সহ-সভাপতি নিরুপা দেওয়ান বাসস’কে জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে সকাল থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পঞ্চশীল গ্রহণ, অষ্টশীল গ্রহণ, সমবেত প্রার্থনা, চীবরদান, গুরু ভক্তি, ছোয়াইং প্রদান মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলনসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।

আজ বিকেলে বুদ্ধ মুর্তি স্মান, ধর্মদেশনা, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন ও দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনার মধ্যদিয়ে শেষ হবে আষাঢ়ী পূর্ণিমার আয়োজন।

বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা জানান, এই তিথিতেই গৌতম বুদ্ধ মাতৃগর্ভে ধারণ, গৃহত্যাগ ও বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম তাঁর পঞ্চবর্গিয় শিষ্যকে ধর্মচক্র দেশনা দেন এবং সংযম পালনের ব্রত হতে এই আষাঢ়ী পূর্ণিমা হতে আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিনমাস বর্ষাবাস শুরু করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গৌতম বুদ্ধ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি লাভ, রাজ প্রাসাদ, রাজত্ব ও স্ত্রী-পুত্রের মায়া ত্যাগ করে দুঃখ থেকে মুক্তির পথ অন্বেষণে গৃহত্যাগ ও বুদ্ধত্ব লাভের পর পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের উদ্দেশে প্রথম ধর্মের বাণী প্রচার করেন।

ছবি : বাসস

উল্লেখ্য, এ আষাঢ়ী পূর্ণিমার পর তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাস শুরু করেন। এ সময় ভিক্ষুরা জরুরি কোনো কারণ ছাড়া বিহারের বাইরে রাত্রিযাপন করতে পারেন না। এ তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্ম বিনয় অধ্যয়ন ও ধ্যান চর্চা করে থাকেন। বর্ষাবাস শেষ হওয়ার পর প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব।