শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক (অ্যাগ্রো-টেক) শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মতো কৃষি সমৃদ্ধ জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
সোমবার কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি নির্বাচন বিষয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ইউজিসি সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্বাচনে স্বচ্ছতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত তিন ফসলি বা এক ফসলি জমি অধিগ্রহণ না করে খাস জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ড. মামুন বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। চলতি বছরের মধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্বাচন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইউজিসি কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
সমন্বয় সভার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।