শিরোনাম

নেত্রকোণা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম বলেছেন, ইতিহাস চর্চা, রাষ্ট্রচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গভীরতর বিকাশে মুক্ত বুদ্ধিবিনিময় ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই।
আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের টিটিসি ভবনের কনফারেন্স কক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল এ একাডেমিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতির কথা তুলে ধরেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফজলুল হক ও হাফসা ইসলাম মোহ।
পাবলিক লেকচারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ।
তিনি গবেষণাভিত্তিক উপাত্তের মাধ্যমে ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও জরিপ বিশ্লেষণ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছিল না, বরং শিক্ষার্থীদের হাত ধরে সূচিত এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক সর্বজনীন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই গণ-অভ্যুত্থান দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খান।
বক্তারা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম।
পরে ভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার যৌথভাবে আলোচক অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খানের হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও আইকিউএসি সেলের পরিচালক ড. মো. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক জনাব ছহীহ্ শাফি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের টিটিসি ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক একাডেমিক অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্ত একাডেমিক আলোচনার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।