শিরোনাম

সিলেট, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এ টি এম তুরাব হত্যার সাথে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। এ সময় তিনি তুরাব হত্যার বিষয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলকে সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন।
জুলাই গণঅভ্যূত্থান চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী এবং সাংবাদিকতায় অবদানের জন্যে সিলেট প্রেসক্লাব প্রবর্তিত ‘এ টি এম তুরাব পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আজ শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করেন এ টি এম তুরাব পদকের জন্য মনোনীত দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে। তুরাব হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। যাতে তুরাবসহ এ ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা দ্রুত গ্রেফতার হয় এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি হয়।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তুরাব শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছর অপতথ্যের মাধ্যমে দেশে তথ্যসন্ত্রাস কায়েম হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়ে গেছে। বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে মিডিয়া স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভেদাভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের ব্যাপারে আমাদের সকলকে এক থাকতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন-ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবীর আহমদ সোহেল, ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য কবির আহমদ।
পরে, পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদারের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধান অতিথি।