বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৩:২২

চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সব কেন্দ্র পরীক্ষার উপযোগী, শিক্ষার্থীদের স্বার্থই অগ্রাধিকার : মাহদী আমিন

ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অংশীজনদের সঙ্গে পর্যালোচনার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

আজ মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন জানান, দেশজুড়ে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও বর্তমানে দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।’

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয়, সেটি লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও বড় দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি-এই পাঁচ জেলায় পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্য কোনো অঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পেরে থাকে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার যে তথ্য এসেছে, সেটির জন্য পরীক্ষার্থীদের ‘ফুল মার্কস’ (পূর্ণ নম্বর) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।’

মাঠ প্রশাসনকে দেওয়া নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার সমস্যা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।

গতকালের কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কেবল এই একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত সিদ্ধান্তে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয় এবং নৌকাসহ বহুমুখী ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। একটি কেন্দ্রের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি দুঃখজনক হলেও বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রের পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যখন কোনো দুর্ভোগ ছাড়াই নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, তখন মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও দিয়ে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার নিন্দা জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, মিথ্যা ও পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উস্কানি গণ-আকাক্সক্ষার পরিপন্থী এবং কোমলতি শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ বিনির্মাণের কারিগর। প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্মের সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে শিক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত, পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা।’

শিক্ষার্থীরা যেন আতঙ্কিত না হয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস অক্ষুণ্ন থাকে, সেরকম পরিবেশ বজায় রাখতে দেশপ্রেমিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিটি নাগরিককে সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।