শিরোনাম

সুনামগঞ্জ, ১০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : টানা তিন দিনের বর্ষণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে দিয়ে প্র্রবেশ করছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বাসস’কে জানিয়েছেন, আগামী দুইদিন ভারী বৃষ্টি হবে। নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের নিচু এলাকা ইসলামপুর ও দরিয়াবাজ এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে ওই এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া, কোরবাননগর ও লক্ষণশ্রী, গৌরারং ইউনিয়নের অনেক গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। টানা বৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের নিম্নাঞ্চলের অনেক সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ার খলার ১শ’ ফুট ও আনোয়ারপুর সড়কের ৫০ ফুট ডুবন্ত সড়কে ২ ফুট সমান পানি উঠেছে। স্থানে স্থানে ভাঙনে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না। সীমান্ত নদী যাদুকাটা বৌলাই, মাহারাম, রক্তি পাটলাই নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামছে। নদীর পাড়ের নিম্নাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বাসস’কে জানিয়েছেন, জেলার বন্যার আশঙ্কার রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থতি মোকাবেলায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কার্যালয়গুলোর অধীনে ত্রাণ মজুত আছে। প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন, মেডিকেল টিম গঠন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষণ, নৌযান প্রস্তুত রাখাসহ সকল দপ্তর সতর্কাবস্থায় রয়েছে। যেকোনো স্থান দুর্যোগে আক্রান্ত হওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।