বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ২০:০৬

নেত্রকোণায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন 

নেত্রকোণা, ৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও তালাকপ্রাপ্ত নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ে অভিযুক্ত মো. হেলালকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

একই সঙ্গে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া কন্যাশিশুটির আইনি পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করাসহ তার (ধর্ষকে)’র সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার দুপুরে নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. হেলাল বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের মো. আলমের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের মো. হেলাল একই এলাকার এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গর্ভাবস্থার ছয় মাস বয়সে ২০১৩ সালের ১০ জুলাই ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের কিছুদিন পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর তার গর্ভে জন্ম নেয়া কন্যাশিশুটির ভবিষ্যৎ ও পরিচয় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলার শুরু থেকেই আসামি হেলাল ধর্ষণের ঘটনা এবং জন্ম নেয়া শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে অস্বীকার করে আসছিল। 

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড.মো. নুরুল কবীর রুবেল এবং বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাড. মানবেন্দ্র বিকাশ উজ্জ্বল।

এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাবার পরিচয় ও সম্পত্তির অধিকার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী মৃত নারীর কন্যা (১৩), যে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।