বাসস
  ০৬ জুলাই ২০২৬, ২৩:০৯

পাঠ্যবই মুদ্রণে সময়মতো কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন পেপার মিল মালিকরা : শিক্ষামন্ত্রী

আজ সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় পেপার মিল মালিক ও প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট ছাড়াই বাজারমূল্যে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকরা।

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় পেপার মিল মালিক ও প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত বছরগুলোতে শেষ সময়ে এসে প্রেস মালিকদের প্রায়ই অভিযোগ থাকত যে তারা সময়মতো কাগজ পাচ্ছেন না কিংবা বাজারে কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতা ও সিন্ডিকেট দূর করতেই এবার দেশের খ্যাতনামা পেপার মিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন- বাজারে কাগজের দাম বাড়াবেন না, নির্ধারিত বাজারমূল্যেই সঠিক সময়ে কাগজ সরবরাহ করবেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। দেশীয় মানসম্মত কাগজে যেন বই ছাপা হয়, সেটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। পেপার মিল মালিকদের এই আশ্বাসের পর এবার মুদ্রণ খাতের প্রেস মালিকদের সাথেও বৈঠক করা হবে। এবার একটি আইনি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় চুক্তি করা হবে, যেন মাঝপথে কেউ চুক্তির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ না পায়।‘

ব্রিফিংকালে মন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এনসিটিবি’র মাধ্যমে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য আনুমানিক ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজের প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পেপার মিলগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ কাগজ আগামী দুই মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা সম্ভব। পেপার মিল মালিকরা প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫৫ হাজার মেট্রিক টন মানসম্মত কাগজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশীয় কাগজের গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ডিএমডি মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা পেপার মিলস লিমিটেডের জিএম মো. ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, টি কে কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের জিএম মো. মোস্তফা কামাল, বেস পেপারস লিমিটেডের জিএম মো. জব্বার।

এছাড়াও যথাসময়ে বই ছাপানোর কাজ সফল করতে সরকারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সুইস কোয়ালিটি পেপার (বিডি)-এর মো. শাখওয়াত হোসেন, ক্রিয়েটিভ পেপার মিলসের পরিচালক মো. ফিরোজ আহমেদ, এথিক্যাল পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের মাসুদ কামাল রানা, পারটেক্স পেপার মিলসের মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ।

পেপার মিল মালিকদের সাথে আলোচনার ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই প্রেস মালিকদের সাথেও বৈঠক করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।