বাসস
  ০৪ জুলাই ২০২৬, ২১:০৮

বর্ষায় তাপপ্রবাহ, বদলে যাচ্ছে রংপুর অঞ্চলের আবহাওয়ার চিত্র 

ছবি : বাসস

 রেজাউল করিম মানিক

রংপুর, ৪ জুলাই ২০২৬ (বাসস): জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রংপুর অঞ্চলের আবহাওয়ার চিত্র ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। যখন বর্ষার ঘনঘোর বৃষ্টিতে প্রকৃতি শীতল হওয়ার কথা, তখন তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। কয়েকদিন আগে বৃষ্টিপাত হলেও সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। আবারও মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে রংপুর বিভাগ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি, নীলফামারীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র গরমের কারণে আজ দুপুরে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচলও ছিল তুলনামূলক কম। প্রচণ্ড গরম এড়াতে বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

এদিকে আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে রোগীর চাপ। 

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চল এক অদ্ভুত জলবায়ু পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনা, করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা এবং আরও বহু নদী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মরে যেতে বসেছে। 

উজানে আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলো থেকে অব্যাহত ও একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমান আবহাওয়ার ধারা অদ্ভুত ও অনিশ্চিত আচরণ করছে। যা কৃষিসহ সব খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরের পর বছর ধরে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে আবহাওয়ায় এক ধরনের অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে। শীতে তীব্র শীত বা গ্রীষ্মে প্রচণ্ড তাপের সৃষ্টি হচ্ছে। আবার আষাঢ়-শ্রাবণে নেই বৃষ্টি। বর্ষায় বইছে তাপদাহ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, তীব্র শীত ও তাপ, সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি, পানি দূষণ, পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলজ ব্যবস্থার অবক্ষয়, নদীতে পলি জমা, নদী শুকিয়ে যাওয়া ও ভাঙনের ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে রংপুর বিভাগ জুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। 

নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৫০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় গরমের কষ্ট আরও বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার অসুবিধা হচ্ছে।। 

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বাসসকে বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে এবং মানুষ স্বস্তি পেতে পারেন।