বাসস
  ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫৬
আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৮:২১

কাল শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা: অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী

আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সারা দেশে আগামী ২ জুলাই থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে ছাত্রী দের সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজারের বেশি। এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সচিব জানান, দেশজুড়ে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় বসছেন। এবারও মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি, যা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এবার ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

সচিব আবদুল খালেক বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশের সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ খোলা হয়েছে। এই সেলে বসে দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ‘বডি অন ক্যামেরা’ থাকবে। যা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখবে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯টি সাধারণ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে।

সচিব আরও জানান, যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হবে। নকলের জন্য কুখ্যাত সব ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ বিবেচনায় কিছু ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রেখে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ছড়ায় বা ফাঁসের চেষ্টা করে, তবে সংশোধিত ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০’ অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে যেকোনো অনিয়মের জন্য কেন্দ্র সচিব ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

কোনো শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।