শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থাকা সারাদেশের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ গাজীপুরস্থ ক্যাম্পাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশনে পরিবেশ সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্তসহ একগুচ্ছ আধুনিক ও কর্মমুখী পরিকল্পনা নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
উপাচার্য তার বক্তব্যে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিমনস্ক, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ তৈরির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সর্ববৃহৎ এই উচ্চশিক্ষা পরিবারের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এই সবুজ বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২ কোটি বৃক্ষ রোপণ ও তা পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সুরক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
অধিবেশনে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক বাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া ‘মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট’-এর মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানিজ, কোরিয়ানসহ ৭টি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে অধিবেশনে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সর্বসম্মতভাবে ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ. টি. এম. জাফরুল আযম এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়। আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমন প্রজন্মের হাত ধরে, যারা চাকরি প্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হবে, পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।’
অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ সরাসরি অংশ নেন।
এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।