শিরোনাম

কুড়িগ্রাম, ২৫ জুন ২০২৬ (বাসস): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ আজ এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার বিস্তারের নেতিবাচক প্রভাব এবং তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আজ এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের যেমন সুফল রয়েছে, তেমনি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অনেক সময় যাচাই না করে তথ্য শেয়ার করার ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
অপপ্রচার রোধে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য বা খবর ছড়ানোর আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করা প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য চোখে পড়লে তা অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল এবং সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ের ক্ষেত্রে আইনি ও কারিগরি নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেন।
সভায় বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, কেবল সরকারি উদ্যোগ বা আইন প্রয়োগ করে অপপ্রচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক অপপ্রচার বন্ধে সব মহলের সচেতনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, সহকারী কমিশনার ফাহাদ বিন সালাউদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ নুর বখত এবং এনসিপির জেলা সভাপতি মুকুল মিয়া প্রমুখ।