বাসস
  ২৫ জুন ২০২৬, ১১:৩১

আরবান হেলথ সেন্টারগুলো পরিচালনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ চেয়েছে মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস): দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় অবস্থিত ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার (ইউপিএইচসি) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতায় পরিচালনার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক তথ্যসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভাটি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ও অনলাইন জুম প্ল্যাটফর্মে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে নির্মিত ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুকূলে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গত ২২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় গৃহীত হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১৫১টি কেন্দ্র স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, বর্তমানে এসব কেন্দ্র পরিচালনার ব্যয়ের ৫০ শতাংশ বহন করে সংশ্লিষ্ট এনজিও, ২৫ শতাংশ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাকি ২৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা।

তবে, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, ১ জুলাই থেকে কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে, সে বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন জানান, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে হস্তান্তরের পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পরবর্তী সময়ের ব্যয়ভার বহনে সম্মত হননি, ফলে কিছু বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এনজিও প্রতিনিধিরা সভায় জানান, অনেক কেন্দ্র বেসরকারি ভবনে ভাড়াভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে ও প্রতিটি ক্যাচমেন্ট এলাকায় ত্রিস্তরভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে।

তাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মালিকানাধীন কেন্দ্রগুলো সরাসরি গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবগণ, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), প্রকল্প পরিচালক, বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলোর সেবার ধরন, জনবল কাঠামো, এক বছরের সম্ভাব্য বাজেট, সংশ্লিষ্ট এনজিও’র নাম, ভবনের মালিকানা ও অবস্থা, বিদ্যমান সমস্যা, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পরিচালনা পদ্ধতি, অর্থায়নের উৎস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জমা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে এলে, নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।