বাসস
  ২৫ জুন ২০২৬, ০০:২৩
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০০:২৬

ওষুধ শিল্পের বিশ্বায়নে প্রবাসী বিজ্ঞানীদের মেধা কাজে লাগাতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মেধা এবং তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘রোল অব নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) সায়েন্টিস্টস ইন অ্যাডভান্সিং বায়োটেক অ্যান্ড বায়োসিমিলার ড্রাগস ইন বাংলাদেশ’স ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন, অর্থকণ্ঠ এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পে ধারাবাহিকভাবে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করছে। বায়োটেক ও বায়োসিমিলার ওষুধের মতো উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাতে প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ততা দেশীয় ওষুধ শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতের আধুনিকায়নে প্রবাসী মেধাবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি সরকারের নীতিগত সমর্থনেরও আশ্বাস দেন।

ছবি : বাসস

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এনআরবি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম আর নাসির উদ্দিন। তিনি বায়োটেকনোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বৈশ্বিক বাংলাদেশি বৈজ্ঞানিক প্রতিভা ও দেশীয় অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগ বা গবেষণার ক্ষেত্রে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। দেশে সুষ্ঠু ও সহায়ক গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসে থাকা আমাদের মেধাবীরা অবশ্যই দেশে ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত সহযোগিতা থাকলে ওষুধ শিল্পেও আমরাও বিশ্বসেরা হতে পারি। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে ওষুধ আমদানির ওপর নির্ভরশীল না থাকে এবং দেশের মানুষকে যেন স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা এবং ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে সহায়তার জন্য সাংবাদিকরা সবসময় প্রস্তুত। এ ধরনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব সবসময় পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত চিকিৎসক ডা. শাহ মো. আমান উল্লাহ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রহিমা বেগম, বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকনসহ স্বাস্থ্য ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন ও অর্থকণ্ঠের ম্যানেজিং এডিটর এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম এবং বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের এক্সিকিউটিভ এডিটর সুমাইয়া জামান।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের মধ্যে সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।