বাসস
  ২৪ জুন ২০২৬, ১৩:১৪

খুলনায় নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা

খুলনা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস): মিথ্যা জন্ম তারিখ ও জাল সনদে চাকরি নেয়ার ঘটনায় চাকরিচ্যুত খুলনার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের নৈশ প্রহরী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে চাকরি সূত্রে প্রাপ্ত মোট ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বাদি হয়ে খুলনার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ পূর্বক আগামী ৪ আগস্ট শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আইনজীবী এ্যাড. আব্দুল আজিজ।

তিনি বাসস’কে বলেন, মিথ্যা জন্ম তারিখ ও জাল সনদে চাকরি নেয়ার ঘটনায় চাকরিচ্যুত খুলনার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের নৈশ প্রহরী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে চাকরি সূত্রে প্রাপ্ত মোট ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা আদায় পূর্বক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখের পুত্র। তিনি জন্ম তারিখ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দাখিল করে গত ২০০১ সালের ২ মে বন বিভাগের নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। এ বিষয়টি তুলে ধরে জনৈক গৌতম কুমার শীলসহ একাধিক ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলে। তারপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত ও সর্বশেষ চাকরিসূত্রে প্রাপ্ত মোট ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এরআগে নৈশ প্রহরী মো. সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক খুলনার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বন বিভাগ কর্তৃক তার বহিষ্কারাদেশ বহাল রেখে গত ৩১ মার্চ এ আদেশ দেন।

বন বিভাগের সূত্র জানান, বনবিভাগ কর্তৃক তদন্তের মাধ্যমে নৈশ প্রহরী মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা জন্ম তারিখ ও মিথ্যা সনদে চাকরি নেয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরি থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। উক্ত দন্ডাদেশ বরখাস্তকৃত নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে খুলনার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করে বনবিভাগ। পরে আদালত ৩১ মার্চ বন বিভাগের দন্ডাদেশ বহাল রাখেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নৈশ প্রহরী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একজন বন কর্মচারী দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠানে তার বেতন-ভাতা কর্তৃক গৃহীত অর্থ আদায় পূর্বক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে দুদক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং অবৈধভাবে চাকরি গ্রহণের কারণে ওই নৈশ প্রহরী কর্তৃক গৃহীত অর্থ ফৌজদারি মামলা দয়েরের মাধ্যমে তার নিকট থেকে উল্লেখিত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। তার আলোকেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের আইনজীবী।