শিরোনাম

ঢাকা, ২১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।
জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গুম হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী।
আজ সাক্ষীর জবানবন্দিতে সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়া স্যার এবং মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিকট যাই। কাকে গাড়িতে পিক করবে তা আমি জানতাম না। জিয়া স্যার গাড়িতে বসে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন। টার্গেট কখন আসবে তা জানার জন্য ফোন করছিলেন।
একটা পর্যায়ে জানা যায় যে, টার্গেট আসবে না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দেই এবং স্যারকে বলে পরের দিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে যাই। ছুটিতে থাকা অবস্থায় মিডিয়ার মাধ্যমে আমি জানতে পারিÑ ইলিয়াস আলী নামক একজন বিএনপি নেতাকে মহাখালী ওভার ব্রিজের ওখান থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ৯ দিন ছুটি শেষে এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে আমি আমার কর্মস্থলে যোগদান করি। যোগদানের পর আমি র্যাব হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করি। অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, কোতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়া স্যার নষ্ট করে ফেলেন।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, একদিন স্যার ফোনে কোনো একজনের সাথে কথা বলছিলেন। ওই সময় স্যারের ফোনে অন্য একটি কল আসলে স্যার বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার (ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অব. তারিক আহমেদ সিদ্দিক) ফোন দিয়েছেন।’ জিয়া স্যার তারেক স্যারের সাথে কথা বলা শুরু করেন। অপর প্রান্তে কী বলেছে আমি জানি না। তবে জিয়া স্যার অভিযোগের সুরে বলছিলেন, ‘স্যার আপনাদের কথা মতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে, এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠাই দেন, এটাই আমার ভালো।’
আজ সাক্ষীর জবানবন্দির সময় এই মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।