বাসস
  ২১ জুন ২০২৬, ১৭:৪৯

বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইনভিত্তিক ওয়ান-স্টপ সেবা চালুর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ফাইল ছবি

ঢাকা, ২১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের যাতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সেজন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।

তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি। 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। কারণ বিভিন্ন খাতে অনুমোদনের ধরন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভিন্ন হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকেও আরও সমন্বিত করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি-নির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, সরকার ধীরে ধীরে দেশের যানবাহন খাতকে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে আগ্রহী। তবে বর্তমান বাস্তবতায় পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের পরিবর্তে আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৈঠকে জেবিসিসিআই প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

এ সময় জেবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, এ চুক্তি দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।