শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো। স্মারকটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রকাশ করেছে।
Ñস্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধ-
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্ররা ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার ঘোষণা দিয়েছে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু না করা, শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকা এবং লেবাননের আঞ্চলিক অখ-তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে।
-৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি-
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে।
- মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার-
যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল আরোপ করা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ ‘অবিলম্বে’ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
৩০ দিনের মধ্যে এ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিজেদের বাহিনীও সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
-হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু-
ইরান ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ‘নিরাপদ ও বিনামূল্যে চলাচল’ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে।
হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণের পর ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুরোপুরি পুনঃস্থাপিত হবে।
-৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা-
যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত ‘সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছে।
এছাড়া সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ করা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও এর উপজাত রপ্তানির জন্য ছাড়পত্র দেবে।
এর আওতায় ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহন-সংক্রান্ত সেবাও থাকবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে।
-পারমাণবিক কর্মসূচি-
ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা উন্নয়ন করবে না।’
তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এমন একটি পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে ঠিক হবে।
ন্যূনতম ব্যবস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে নিজ দেশেই ইউরেনিয়াম হ্রাস করার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনও করবে না।
-স্বাক্ষর-
মধ্যস্থতায় যুক্ত থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, ইসলামাবাদ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।
শরিফ বলেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে সেখানে এই ‘ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ’ করা হবে এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
- জাতিসংঘের প্রস্তাব-
চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।