শিরোনাম

নড়াইল, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান বিক্রি করতে শুরু করেছেন কৃষকরা। সদর উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকির কারণে লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা খাদ্য গুদামে এসে ধান বিক্রি করতে পারছেন। বাজার দর থেকে সরকারিভাবে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষীরা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি.এম. রাহসিন কবির বাসস’কে বলেন, লটারিতে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। ধান ক্রয়ে যাতে সিন্ডিকেট না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনের মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রকৃত কৃষকরাই যেন তাদের কষ্টের ফসল সরকারের কাছে উপযুক্ত দাম দিয়ে বিক্রি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীকে বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খোন্দকার তাজউদ্দিন আহমেদ বাসস’কে বলেন, চলতি মৌসুমে নড়াইল সদর উপজেলায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪শ’ ৩০ মেট্রিক টন। সরকারিভাবে খাদ্য গুদামে গিয়ে ধান বিক্রির জন্য লটারির মাধ্যমে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৮শ’ ১২জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন। একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি খাদ্য গুদামে নির্বাচিত কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারবেন।
এছাড়া তালিকাভূক্ত ১৯ জন মিল মালিকের কাছ থেকে ২ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কেনা হবে। প্রতিকেজি সিদ্ধ চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ টাকা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত এ উপজেলায় ২৮৫ মেট্রিক টন ধান এবং ১ হাজার ১শ’ ৪৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত।
সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান কবীর বলেন, লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করায় সরকারি গোডাউনে ধান বিক্রিতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি নীতিমালা মেনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন করা হবে। প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত ধান ও মিল মালিকরা চাল সরকারি গোডাউনে এসে সরাসরি বিক্রি করতে পারছেন বলে তিনি জানান।