বাসস
  ০৯ জুন ২০২৬, ১৫:৩১

খুলনায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা 

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে খুলনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। ছবি: বাসস

খুলনা, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ জেলায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সহযোগিতায় খুলনা জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, প্রত্যক্ষ ধূমপানের চেয়ে পরোক্ষ ধূমপান মানবস্বাস্থ্যের জন্য অধিক ক্ষতিকর। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। সুস্থ এবং নিরাপদ জীবন গঠনে তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি পরিহারের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্মসংস্থান, বিদেশে পাঠানোর সুযোগ ও কনসার্ট আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রলোভনে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

সভায় জানানো হয়, বছরে দেশে এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবনের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করে। সে হিসেবে প্রতি ঘন্টায় ১৮ জন মানুষের মৃত্যু ঘটছে। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এবং ১৫ বছরের কম বয়সীদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক সেবন করে। ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করে। 

২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ গণপরিবহনে, ৮১ লাখ মানুষ কর্মস্থলে এবং ৪ কোটির বেশি মানুষ বাসায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ জর্দা, গুল, সাদাপাতা ও খৈনী ইত্যাদি (ধোঁয়াবিহীন তামাক) সেবন করে। বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের ৪৬ শতাংশ তামাক ব্যবহারকারী। বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর ২দশমিক ৫১ শতাংশের কারণ পরোক্ষ ধূমপান।

সভায় খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন সভাপতিত্ব করেন। 

স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ। 

সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জাকিয়া সুলতানা, কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, খুলনা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকাসহ বিভিন্ন এনজিও  প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় তামাক বিরোধী সর্বোচ্চ সংখ্যক মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করার জন্য কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং সর্বোচ্চ অর্থ জরিমানা করায় খুলনা সহকারী কমিশনার মো. মেহেদী হাসানকে সম্মাননা ক্রেস্টসহ সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এরআগে দিবসটি উপলক্ষে নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।