বাসস
  ০৮ জুন ২০২৬, ১৯:২৭

চবির ওশান ডাটা সেন্টারে নেই কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি : পরিচালক

ছবি : বাসস

চবি, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থাপিত চায়না-বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার উদ্বোধনের আগে এতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন।

আজ চবি উপাচার্যের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।

ড. মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বঙ্গোপসাগর নিয়ে গবেষণার জন্য এতদিন বাংলাদেশকে বিদেশি স্যাটেলাইটের সীমিত ও বিলম্বিত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হলে গবেষকরা সরাসরি বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে রিয়েল-টাইম ডাটা সংগ্রহ করতে পারবেন, যা সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু গবেষণা ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

চায়নার সহায়তায় নির্মিত এই ডাটা সেন্টার বাংলাদেশের জন্য কোনোরূপ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে কিনাÑএ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে সবার আগে দেশ ও মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব। এই অংশীদারিত্ব সম্পূর্ণ সিভিল ও গবেষণাভিত্তিক। তাই, এর সঙ্গে কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতা না থাকায় অথবা এ সেন্টার থেকে কোনো আপলিংক পদ্ধতিতে ডাটা ট্রান্সফার ফেসিলিটিজ না থাকায় এতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ঝুকি নেই।”

কেন ডাটা সেন্টারটি আমাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে নাÑএ সম্পর্কে সেন্টারের পরিচালক ড. মোসলেম উদ্দিন বলেন, “প্রথমত, এটি সম্পূর্ণ সিভিল ও গবেষণাভিত্তিক একটি প্রকল্প। দ্বিতীয়ত, আমরা সব ডাটাই পাচ্ছি চীনের ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট থেকে, যা তাদের কাছেও সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া আমাদের পারস্পরিক সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আওতায় পরিচালিত হবে। তৃতীয়ত, এটি সম্পূর্ণরূপে একটি শুধু ডাউনলিংক গ্রাউন্ড স্টেশন। সর্বশেষে, আমরা যেসব ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ ব্যবহার করে ডাটা ডাউনলোড করছি, তা বিটিআরসি কর্তৃক অনুমোদিত।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ১০টায় চবির এই স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার উদ্বোধন করা হবে। চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ও সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ূব ইসলাম, চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর মি. লি শেওপেং এবং সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. ফু বিন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুল হুদা এবং চীনা প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. মাও জিংহুয়া।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৯ সালে চীনের জাতীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির (এসআইও) কাছে চবির ওশানোগ্রাফি বিভাগের পক্ষ থেকে যৌথ গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর ও কারিগরি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটি চূড়ান্ত রূপ পায়। গত বছরের মার্চে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ইতোমধ্যে অধিকাংশ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।