শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পতেঙ্গা এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সেখানে ওয়াসার পানি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। এ তিনটি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। বর্তমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তারা সবাই সুপেয় পানির আওতায় আসবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচনের সময় এই এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই দীর্ঘদিনের আকাক্সিক্ষত এই সুপেয় পানি সরবরাহের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি নথিতে দেখা যায়, গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। ওই চিঠিতে তিনি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চেয়েছেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিঠিতে উল্লেখ করেন, বোয়ালখালী উপজেলার ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ কোটি লিটার। বর্তমানে আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী এলাকায় এই প্রকল্পের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ওয়াসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভা-ালজুড়ি প্রকল্প থেকে পরিশোধিত পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, পতেঙ্গা এলাকায় প্রতিদিন পানির চাহিদা ১০ কোটি লিটার। চলমান কাজ শেষ হলে সেখানে ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট ৪ কোটি লিটার পানির চাহিদা বিশ্ব ব্যাংকের একটি চলমান প্রকল্পের আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পূরণ করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, পাইপলাইনের সাত বছরের জটিলতা কাটিয়ে মাত্র তিন দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব ওয়ার্ডের লোকজন ওয়াসার পানি পাবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।