শিরোনাম

শরীয়তপুর, ৭ জুন ২০২৬ (বাসস): জেলার গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের মাটির অতি উত্তাপের উৎস সন্ধানে আসছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লি: (বাপেক্স)-এর বিশেষজ্ঞ দল।
গত প্রায় তিনদিন ধরে হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ সংলগ্ন প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এ খবর পাওয়ার পর গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অনুসন্ধান করেছে। তবে এখনও কোনো কারণ নির্ধারণ করা যায় নি।
জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) থেকে একাধারে এ গরম বাষ্প বেরিয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রহস্যজনক এ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তারা মাটির নিচে গর্ত করে পানি ঢেলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে বারবার পানি ঢালার পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছেনা। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নির্দিষ্ট স্থানটিতে আজও খনন কাজ চলছে।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে প্রথমে ওই স্থানে মাটি গরম থাকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে ধীরে ধীরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান মিয়া বলেন, পরিস্থিতি এখনো একই রকম। ঘটনাস্থলে মাটি খনন কাজ চলছে। বাপেক্সকে জানানো হয়েছে। বাপেক্স বিশেষজ্ঞ দল গোসাইরহাটের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছে। তারা এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লিকেজ বা লাইনের কোনো সমস্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।’
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল মাটির নিচে কোনো কারণে তাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে পানি ঢালার পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মাটির গভীর অংশ থেকেও তাপ অনুভূত হচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ জানতে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নওসাদ হাসান (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। স্থানীয় কোন প্রতিষ্ঠান কূলকিনারা করতে পারছেনা। বাপেক্সকে জানানো হয়েছে। তারা এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।