বাসস
  ০৭ জুন ২০২৬, ১৫:৩৯

বাজেটে বিমান ও পর্যটন খাতে নীতি সহায়তার দাবি অংশীজনদের

ঢাকা, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সংস্কার, কর ছাড় ও অবকাঠামো সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটন খাতের অংশীজনরা। দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এই দাবি তুলেছেন তারা।

বিএনপি সরকার নির্বাচনী বিজয়ের পর প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বিমান ও পর্যটন খাতের জন্য কেবল আর্থিক বরাদ্দ নয়, দরকার একটি সুসংগত নীতি কাঠামোর। যার মাধ্যমে এই খাত দুটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

বিমান পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ও বিমান ভাড়া কমাতে জেট ফুয়েল, বিমান লিজ এবং এয়ারলাইন পরিচালনায় কর সুবিধা চেয়েছেন। অন্যদিকে পর্যটন খাতের অংশীজনরা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগে প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। 

খাতসংশ্লিষ্টরা বাসস’কে বলেন, আসন্ন বাজেটই হবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের সদিচ্ছার মূল পরীক্ষা। বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাব এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতা সক্ষম পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

বিমান চলাচল খাতের নেতারা বলেন, উচ্চ জ্বালানি কর ও পরিচালন ব্যয় স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্রমাগত দুর্বল করে দিচ্ছে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, সরকারের উচিত বিমান জ্বালানিতে একটি পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা চালু করা এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে এয়ারলাইনগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, করের চাপও বেড়েছে। জেট ফুয়েলের ওপর যৌক্তিক ও স্থিতিশীল কর কাঠামো পরিচালন ব্যয় কমাতে, যাত্রীদের চাহিদা বাড়াতে এবং বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম করতে সহায়তা করবে।’

তিনি জেট ফুয়েলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, বিমান লিজ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর কমানো এবং বিমান-সংক্রান্ত শুল্ক যৌক্তিক করারও দাবি জানান।

শিল্প অংশীজনরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম চালু করতে পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ারও আহ্বান জানান।

বিমান বিশ্লেষক এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্মিনালটি চালু করতে হলে জনবল নিয়োগ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনার প্রস্তুতির ওপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণ আর সেটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা ভিন্ন বিষয়।’ পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাবে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণে বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, কার্গো লজিস্টিকস, নেভিগেশন অবকাঠামো এবং ডিজিটাল বিমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি। 

নতুন উদ্যোগ ঘোষণার চেয়ে বিদ্যমান নীতি ও প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন পর্যটন অংশীজনরা। 

তারা জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবারাং (কক্সবাজার) সমন্বিত পর্যটন অঞ্চলসহ ইকো ট্যুরিজম, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন ও উপকূলীয় পর্যটন উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পর্যটন সরঞ্জাম, পর্যটকবাহী যানবাহন এবং আতিথেয়তা অবকাঠামোর ওপর কর ছাড়ের দাবি জানান। 

তিনি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু এবং ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।

টোয়াব পরিচালক ড. মো. তাসলিম আমিন শোভন বলেন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে উল্লেখযোগ্য অবদান সত্ত্বেও পর্যটন খাত দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন খাতে আরও বেশি গুরুত্ব এবং উন্নয়ন বাজেটের বড় বরাদ্দ দরকার। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের সফলতা নির্ধারণ করবে।’

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়ন পরিবহণ, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল।

অংশীজনরা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট শুধু বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং এটি নীতি সংস্কারের মাধ্যমে উভয় খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে কিনা, সেটির ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন শিল্পে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে।