শিরোনাম

টাঙ্গাইল, ৩০ মে, ২০২৬ (বাসস) : টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সোলার প্যানেল স্থাপনের আগ পর্যন্ত মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরের বিল ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করা হবে।
শুক্রবার মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দেশের অন্যতম মডেল হাসপাতাল-এ পরিণত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফকির মাহবুব আনাম আরো বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি শিশু রোগীদের সঙ্গেও কিছু সময় কাটান। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার সেমিনার কক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর ছাড়াও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিন বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালটি।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো প্রয়োজনীয় রাজস্বখাতের জনবল সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে এম এস আর, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সীমিত জনবল দিয়েই ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য নতুন স্টোর ভবন, সীমানা প্রাচীর, সোলার প্যানেল, সাবমারসিবল মোটর ও পানির লাইন, পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পিট, চিকিৎসকদের ডরমিটরি এবং কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণের দাবি জানায়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সরবরাহের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
মন্ত্রী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দের অভাবে এখনো পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মো. জুবায়ের হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন খান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এম রতন হায়দার, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সজিব কান্তি পালসহ চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।