শিরোনাম

বাগেরহাট, ৩০ মে, ২০২৬ (বাসস) : যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বাগেরহাটে পালিত হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী। এ উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহ দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করে।
সকালে জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে সকাল ১১টায় বাগেরহাটের শালতলা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, সাবেক সভাপতি এম এ সালাম এবং বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম গোরা, খাদেম নেয়ামুল নাসির আলাপ, সোমনাথ দে, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নাসির আহম্মেদ মালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হালিম খোকন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেল, মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার, পৌর বিএনপি’র সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম জুয়েলসহ জেলার নয়টি উপজেলা ও তিনটি পৌর বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিএনপি,যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ওলামা দলের নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। অডিটোরিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ‘জিয়া তুমি চেতনা’, ‘জিয়া দেশের রাখাল রাজা’, ‘জিয়া তুমি বিস্ময়, তুমি এক ইতিহাস’-এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান স্থল।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৮১ সালের ৩০ মে, একদল বিপথগামী সামরিক বাহিনীর গুলিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, কর্ম এবং দেশ গঠনের দর্শন আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তাঁকে ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব, জাতীয়তাবাদী দর্শন এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন চিন্তার গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
প্রধান বক্তা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম বলেন, সংকটকালেই জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শামীমুর রহমান শামীম বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভীষিকা, অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত, তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিকে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, স্বাক্ষরতা অভিযান, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।’
শামীম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দেশপ্রেম ও উন্নয়ন দর্শন আজও জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।’
সভায় বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের নানা দিক স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় উন্নয়নের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।