বাসস
  ২০ মে ২০২৬, ২০:৪৮

সড়কে প্রাণহানি কমাতে সিএমপি কর্মকর্তাদের গতিসীমা বাস্তবায়ন প্রশিক্ষণ

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ২০ মে, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম মহানগরে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা কার্যকর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি)। বুধবার নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে আয়োজকরা জানান, চট্টগ্রামে ৪৪ শতাংশের বেশি যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে চলাচল করছে। এর ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় একশ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। কর্মশালার মাধ্যমে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) অংশ হিসেবে ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে জিআরএসপি।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদ্যমান ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। 

তিনি বলেন, সড়কে সময় বাঁচানোর চেয়ে জীবন বাঁচানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ফেরদৌস আলী চৌধুরী। জিআরএসপি’র এশিয়া-প্যাসিফিক সিনিয়র রোড পুলিশিং অ্যাডভাইজর পিটার জোনস প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। সেশনগুলোতে রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা, অতিরিক্ত গতির ঝুঁকি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সড়কের পাশে নিরাপদভাবে চেকপোস্ট পরিচালনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা-২০২৪ অনুযায়ী, মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটার, শহরে ৫০ কিলোমিটার এবং স্কুল এলাকার আশপাশে ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যানবাহন চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ট্রাফিক সার্জেন্ট, সাব-ইন্সপেক্টর, পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ মোট ৭২ জন পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চারজন পরিদর্শকও এতে অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালা শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।