বাসস
  ১৭ মে ২০২৬, ১৪:৩৩

‘ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট’: ডেপুটি স্পিকার 

গতকাল শনিবার বিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেত্রকোণার কলমাকান্দা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি : বাসস

নেত্রকোণা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এটি মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ‘ড্রিম প্রজেক্ট’।

গতকাল শনিবার বিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেত্রকোণার কলমাকান্দা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুমে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এবং ‘এক আইডি এক পরিবার’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রূপকল্প বাস্তবায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

এরআগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির ২য় পর্যায়ে কলমাকান্দাসহ সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বা সরকারের যেকোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেনই দুর্নীতি নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবীদের তথ্য সংগ্রহ না করে অবহেলা করাও এক ধরণের বড় দুর্নীতি।’

ডেপুটি স্পিকার তথ্য সংগ্রহকারীদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আপনারা বেশিরভাগ সেই বাড়িতেই গেছেন যে বাড়িতে চেয়ার পেয়েছেন, চা দিয়ে আপ্যায়িত হয়েছেন। যে ঘরটায় উঁকি দিয়ে ঢোকার মতো অবস্থা নেই, হয়তো সেখানে যান নি। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের শ্রেণিভেদ বা হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, গারো, হাজং- এই ভেদাভেদ করা যাবে না। মানুষ হিসেবে সবার মূল্যায়ন করতে হবে। পরবর্তী কার্যক্রমে যেন সবার আগে ঝুঁপড়ি ঘর, ছনের ছাউনি দেওয়া ঘর এবং যাদের ঘরে বসার একটা চেয়ার পর্যন্ত নেই-তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’

এ সময় সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, যদি ভুলবশত কোনো সচ্ছল ব্যক্তি আড়াই বা তিন হাজার টাকার কার্ড পেয়ে থাকেন, তবে তা যেন পাশের বাড়ির প্রকৃত দরিদ্র ও অভাবী মানুষটির মাঝে বণ্টন বা সহায়তা হিসেবে দিয়ে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আওতায় কলমাকান্দা লেংগুরা ইউনিয়নে ৭৯৪ জন উপকারভোগীর মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হয়। কার্ড পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের উপকারভোগী লাভলী রংদী। 

তিনি বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে আমি আসলে আবেগ আপ্লুত। জীবনে কোনোদিন সরকারি কোনো অনুদান পাইনি। লেংগুরা ইউনিয়নের উপকারভোগী হিসেবে আজকে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। আমার স্বামী এবং বয়োবৃদ্ধ মা-বাবা লাকড়ি কেটে কোনো রকমে আমাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। ভালো খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের থাকে না।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ডের টাকার মাধ্যমে আমাদের অভাব দূর হবে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব এবং পরিবারে কিছুটা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারব।’ তিনি একই সাথে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক  ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম, কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম এবং লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.সাইদুর রহমান ভুঁইয়া।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।