বাসস
  ১৬ মে ২০২৬, ২৩:৫২
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০০:০১

আগামী ৫ বছরে আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে : আইসিটি মন্ত্রী

ছবি; সংগৃহীত

ঢাকা, ১৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের টেলিকম খাতকে আধুনিক, বিনিয়োগবান্ধব ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন, টেলিকম অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, সরকার টেলিকম খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ৫জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি ও ক্লাউডভিত্তিক সেবার প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি এবং গ্রাহকবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল সেবার বিস্তার নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ৫জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং এই খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে দেশের জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, ৫জি, ডাটা সেন্টার, এআই ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সঠিক নীতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে প্রযুক্তিখাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গোলটেবিল আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবি’র হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।