শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো কৌশলগত ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আজ মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলাম দেশটির নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদামের সঙ্গে মালেস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সরাসরি শিপিং সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রম ও জনশক্তি খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৮-২০৩০ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্যপদে তাদের প্রার্থিতার বিষয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মো. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার প্রতি মালদ্বীপের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এবং চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি প্রসঙ্গে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি বর্তমানে মালদ্বীপের সংসদীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া সরাসরি শিপিং সংযোগ এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সংক্রান্ত ঝুলে থাকা বিষয়গুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেন। আগামী বছরে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের (এফওসি) বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও বৈঠকে আলোচনা হয়।
হাইকমিশনার ড. নজমুল ইসলাম মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈধ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে মালদ্বীপীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক), কমনওয়েলথ এবং ওআইসি-তে দুই দেশ অভিন্ন অবস্থান পোষণ করে। তিনি মালদ্বীপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের আহ্বান জানান।