বাসস
  ১১ মে ২০২৬, ২০:৩৭

নৌকা ও স্পিড বোট থেকে কোনো যাত্রী লঞ্চে উঠতে পারবে না : নৌপরিবহন মন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ঈদ যাত্রায় কোনো যাত্রী নৌকা ও স্পিড বোট ব্যবহার করে নদীর মাঝ থেকে লঞ্চে উঠতে পারবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি আজ এ কথা জানান।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, গত ঈদুল ফিতরে দুটো অনাকাক্সিক্ষত নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে।  এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সদরঘাট এলাকায় কোনো যাত্রী নৌকা ও স্পিড বোট থেকে লঞ্চে উঠতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীরা নৌকা বা স্পিড বোট ব্যবহার করে টার্মিনাল পন্টুনের মাধ্যমে লঞ্চে উঠতে পারবে। এছাড়াও নৌ দুর্ঘটনা রোধকল্পে ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় চালকদের যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ওঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ফেরি পন্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী উঁচু ও মজবুত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে  নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। 

এর মধ্য উল্লেখযোগ্য হলো, ঈদুল-আযহার পূর্বের ৫ দিন এবং পরের ৫ দিন (আগামী ২৩ মে হতে ২ জুন পর্যন্ত) দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হবে। সদরঘাটে যাত্রী চাপ কমানো এবং স্বস্তিদায়ক ও সহজ নৌযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট থেকে এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে।

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে।

ঈদুল-আজহার পূর্বের ৩ দিন এবং পরের ৩ দিন (২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত) নিত্য প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

সদরঘাটে যাত্রীদের ব্যাগেজ/মালামাল বহনের জন্য নিয়মিত ট্রলি সেবা ও অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের জন্য হইলচেয়ার এর ব্যবস্থা করা হবে।

কোরবানির পশু বহনকারী নৌযানকে ঘাটে ভিড়ানোর জন্য কোনো ঘাটের ইজারাদার/তার লোক কর্তৃক টানাটানি করা যাবে না।

এ জন্য কোরবানির পশুবাহী সকল নৌযানকে কোন ঘাটে পশু আনলোড করা হবে, তা নৌযানে দৃশ্যমানভাবে ব্যানার টাঙিয়ে লিখে রাখতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই কোনো লঞ্চ/নৌযানে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা যাবে না।