শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালা ২০২৪-২০২৫’ আজ থেকে শুরু হয়েছে। গবেষণার অগ্রগতি মূল্যায়ন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কৃষি গবেষণাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষক, কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষি সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এফএও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন সি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাউরেসের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান। কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক জাভিদুল হক ভূঁঞা জানান, বাউরেসের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬২৬টি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৬৩৮টি গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গবেষণার অগ্রগতি মূল্যায়ন ও গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যেই প্রতিবছর এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে প্রান্তিক ও কম পরিচিত কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ সম্মাননার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গত তিন বছরের প্রকাশনা সংখ্যা, গুগল স্কলার ও রিসার্চগেটের এইচ-ইনডেক্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা ২৫ জন গবেষকের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজনকে ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইমপ্যাক্ট রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষদভিত্তিক সিনিয়র ও জুনিয়র ক্যাটাগরিতে আরও ১২ জন গবেষক একই স্বীকৃতি লাভ করেন।
এবার প্রথমবারের মতো গবেষণায় নেতৃত্ব, বহিঃসংস্থার গবেষণা অনুদান সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসানকে ‘বাউ রিসার্চ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়।
কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ছয়জন কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাকে ‘প্রফেসর ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরস্কার-২০২৬’ দেয়া হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অবদানের জন্য যশোরের নজরুল ইসলাম, ৫৪০ প্রজাতির ধানের বীজ সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জন্য নেত্রকোনার মো. সায়েদ আহমেদ খান এবং সমন্বিত কৃষি খামার গঠন ও প্রসারে অবদানের জন্য ফুলবাড়িয়ার মোছা. নার্গিস পারভীন সম্মাননা পান।
এছাড়া কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী ‘মিনার ফিড মিল’ প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রিশালের মোহাম্মদ ইসরাফিল, আধুনিক মৎস্য খামার গড়ে তোলার জন্য ভালুকার মো. সাইফুল ইসলাম এবং কেঁচো কম্পোস্ট জৈব সার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিন ১শ’ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ও ৫০টি পরিবারের গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ায় ফরিদপুরের মোছা. তানিয়া পারভীনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গবেষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি কৃষি সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-এর সহ-সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর বাকৃবি প্রতিনিধি মো. আমান উল্লাহকে ‘কৃষি সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, নতুন প্রবর্তিত ‘সেরা ফান্ড হান্টার গবেষক’সহ পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষকদের সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, ছোট পরিসরে শুরু হওয়া বাউরেস এখন দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও কার্যকর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এর স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মডেল দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম ও ক্লাস-পরীক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় মোট ২১টি প্যারালাল টেকনিক্যাল সেশন এবং অনুষদভিত্তিক ছয়টি পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৫৩৯টি গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি টেকনিক্যাল সেশন থেকে একজন করে মোট ২১ জন এবং পোস্টার
সেশন থেকে প্রতি অনুষদে তিনজন করে মোট ১৮ জন সেরা উপস্থাপককে সম্মাননা প্রদান করা হবে।