বাসস
  ০৪ মে ২০২৬, ২৩:০৪

স্মার্ট ও নিরাপদ ক্যাম্পাস রূপান্তরের লক্ষ্যে কুয়েটে মতবিনিময়

ঢাকা, ৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-কে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও বিশ্বমানের স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের ভিপি, জিএস এবং সব বর্ষের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভরা (সিআর) অংশ নেন।

সভায় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সরকারের অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

ছাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদারে গভীর রাতে হলের বাইরে চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা এবং এলাকাভিত্তিক সময় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

ডিজিটাল ক্যাম্পাস গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইউনিক আইডি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে লাইব্রেরি, মেডিকেল ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করা যাবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে উত্তরপত্রে ‘ইউনিক কোডিং সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবাসন সংকট নিরসনে আগামী এক বছরের মধ্যে ছাত্রীদের জন্য এবং দেড় বছরের মধ্যে ছাত্রদের জন্য পৃথক দুটি ১০ তলা আধুনিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রশিদ ও ফজলুল হক হলের স্থানে ইইই, সিই ও এমই বিভাগের জন্য তিনটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে গবেষণা ও স্টাডি ট্যুরের বাজেট বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ক্যাফেটেরিয়ায় মানসম্মত রেস্টুরেন্ট, অডিটোরিয়ামের পাশে আধুনিক ফার্মেসি ও সেলুন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে আইন নিজের হাতে না তুলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় কুয়েটকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ইনোভেশন হাবে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী, উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রাজন কুমার রাহা, উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহমুদুল আলম এবং সহকারী পরিচালক শাহ মুহাম্মদ আজমত উল্লাহসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।