শিরোনাম

বান্দরবান, ৪ মে, ২০২৬ (বাসস): প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে থাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অবশেষে স্বস্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘জীবন বাঁচানোর প্রকল্প’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি।
এসময় প্রধান অতিথি রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালগুলো সচল হলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর খালের আড়াই কিলোমিটার এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি খালের আড়াই কিলোমিটারসহ মোট ৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ভরাট ও অবহেলার কারণে খালগুলো প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হতো ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫৯ জন শ্রমিকের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। পরে দ্রুত কাজ শেষ করতে ব্যবহার করা হবে এক্সকাভেটরসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাচৈ প্রু, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
সভায় বক্তারা খাল পুনঃখনন কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান জেলা বিএনপি সদস্য নুরুল আলম কোম্পানি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফাইল আহমদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।