শিরোনাম

ঝিনাইদহ, ২ মে, ২০২৬ (বাসস) : মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের (৩২) লাশ নিজ গ্রামে ফিরেছে।
আজ ভোরে জেলার কালীগঞ্জের গোবরডাঙ্গা গ্রামে লাশ এসে পৌঁছায়। বিদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ১৮ দিন পর লাশ নিজ গ্রামে ফিরেছে। এ ঘটনায় গ্রামে চলছে শোকের মাতম। সকাল ১০ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ এসে পৌঁছায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষ রাত ৪ টার দিকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় লাশ দাফনের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।
নিহতের স্বজনরা জানায়, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে আরেক বাংলাদেশিকেও হত্যা করা হয়। নিহত নজরুলের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।
গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।
এই হত্যাকাণ্ডের খবরে ও লাশ গ্রামে পৌঁছানোর পরে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল ইসলাম। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন তিনি। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
নজরুল ইসলামের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগির স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই। নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কাজ করবে। আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।