শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জুন ২০২৬ (বাসস) : ম্যাথেউস কুনহার জোড়া গোলে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে নতুন গতি দিয়েছে। একইসাথে শেষ ৩২’পর্বে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।
মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা হাইতির বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। এই পরাজয়ে ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি।
ফিলাডেলফিয়ায় প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কুনহা গোলে ব্রাজিল এগিয়ে যায়। পরে তিনি আরও একটি গোল করেন। বিরতির আগেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র তৃতীয় গোল যোগ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
২৪ জুন মিয়ামিতে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা হাইতির অভিযান শেষ হবে আটলান্টায় মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে।
বর্তমানে গোল ব্যবধানে মরক্কোর চেয়ে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে তাদের মুখোমুখি হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ দল হিসেবে নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেন।
পেশীর চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় নেইমার দলের সঙ্গে সফরে যাননি। এ নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মজা করে বলেন, নেইমার “দূর থেকে কাজ করছেন”।
মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলে পরিবর্তন আনেন। ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে কুনহকে আক্রমণভাগে সুযোগ দেন এবং রাইট-ব্যাকে রজার ইবানিয়েজের বদলে দানিলোকে খেলান।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে হাইতি থেকে সমর্থকেরা আসতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক হাইতিয়ান অভিবাসী দর্শক গ্যালারির প্রায় অর্ধেক অংশ পূর্ণ করেন এবং নিজেদের দলকে জোরালো সমর্থন দেন।
গত সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে পয়েন্ট না পাওয়ায় হতাশ হাইতির কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে তার খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ উপভোগ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৭৭ ধাপ। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ব্রাজিল। রাফিনিয়া বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
তবে সেটিই ছিল ব্রাজিলের এগিয়ে যাবার ইঙ্গিত। ২৩তম মিনিটে ব্রাজিল এগিয়ে যায়। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণের সূচনা করেন কুনহা। ভিনিসিয়াসের শট গোলরক্ষক প্রতিহত করার পর হাইতির ডিফেন্ডার হ্যানেস ডেলক্রোয়ারের ক্লিয়ারেন্স কুনহার গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে।
এরপর আবারও ভিনিসিয়াস ও কুনহার সমন্বয়ে আসে দ্বিতীয় গোল। ভিনিসিয়াসের চমৎকার এ্যাসিস্টে হাইতির রক্ষণভাগ ভেঙে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করেন কুনহা।
ম্যাচের মধ্যে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। তবে বিরতির আগে ব্রাজিল আরও একটি গোল করে। লুকাস পাকেতার উঁচু পাস ধরে ভিনিসিয়াস এগিয়ে যান এবং গোলরক্ষক জনি প্লাসিদের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি ৫২ বছরের মধ্যে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায়। কর্নার থেকে রিকার্দো আদের হেড গোলরক্ষক আলিসন বেকার অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। তবে এটিই ছিল হাইতির পুরো ম্যাচে কয়েকটি ভাল মুহূর্তের একটি।
আনচেলত্তি বেঞ্চ থেকে ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিককে মাঠে নামালে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়াম মুখর হয়ে ওঠে। বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শট ক্রসবাওে না লাগলে ব্যবধান বাড়তে পারতো। এন্দ্রিকের গোল অফসাইডের কারনে বাতিল হয়।
তবুও হাইতি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে এ্যালিসন আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্রাজিলের ব্যবধান ধরে রাখেন।
এর ফলে টানা সাত ম্যাচ পর প্রথমবারের মতো ক্লিন শিট অর্জন করে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের হতাশাজনক সূচনাকে পেছনে ফেলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাবার ইঙ্গিত দিয়েছে।