বাসস
  ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৭

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে চলমান আদিবাসী সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম এর অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। ছবি : জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে চলমান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংক্রান্ত অধিবেশনে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও তাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তথ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ (বুধবার) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, গত ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে।

অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সচিব বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সমঅধিকার প্রদান করা হয়েছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর ধারাগুলি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি ধারা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনটি আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চারটি ধারা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

এছাড়াও, অধিবেশনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা উদ্যোগসহ ওই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ সম্পর্কে ফোরামকে অবহিত করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক একজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি তিনি বর্ধিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গ্রামীণ অবকাঠামো, ডিজিটাল সংযোগ ও জীবিকার বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ভুক্ত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে সরকার বৃত্তি, বহুভাষিক ও ই-লার্নিং ব্যবস্থা, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং মোবাইল মেডিক্যাল টিম ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সেইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পার্বত্য জেলাগুলোতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন-পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য ও সমতল অঞ্চলের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।