শিরোনাম

/মুহাম্মদ আমিনুল হক/
সুনামগঞ্জ, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা ঢলের কারণে সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কায় পাকা বোরো ধান দ্রুত কাটার নির্দেশ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের পাকা ধান কাটার নির্দেশনা দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলার হাওরগুলোতে এরইমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে চলমান ঝড়-বৃষ্টি, জমিতে জলাবদ্ধতা এবং ধান কাটার অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে কৃষকরা চিন্তিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় পানিতে ডুবে রয়েছে জেলার বিভিন্ন হাওরের নিচু জমি। এতে আধাপাকা ও থোড় ধানের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমির পাকা ধানও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক স্থানে হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরাই এখন কৃষকদের ভরসা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটতে হচ্ছে। অন্যদিকে হাভেস্টার দিয়ে প্রতি কেদার (৩০ শতক) জমির ধান কাটতে খরচ হয় ২ হাজার টাকা।
নলুয়ার হাওরের কৃষক রাশিদ উল্লাহর সাথে আলাপকালে তিনি বাসসকে বলেন, চোখের সামনে পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। মানুষ (শ্রমিক) পেলে বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। মেশিনে কাটলেও ভাড়া বেশি দিতে হয়। এলাকায় ধানের দাম নেই। বর্তমানে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৫০০ টাকা এবং শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধান উৎপাদনে ব্যয় বাড়ছে। ধানের ন্যায্য দাম না পেলে আমরা বেকায়দায় পড়বো।
জগন্নাথপুর বাজারের একতা মিলের মালিক আমির আলী বলেন, আমরা কাঁচা ধান কিনি না। ভালো শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে।
নাঈম ট্রেডার্সের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, মাঝে মাঝে তেল সংকট থাকলেও পরে সরবরাহ আসে। জ্বালানি সংকটে কিছু হারভেস্টার বন্ধ ছিল। তবে ৯ হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষকরা ধানের কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। জেলায় প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
সূত্র জানায়, আগাম বৃষ্টিপাতে প্রথম ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২১ হেক্টর ও দ্বিতীয় ধাপের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমির ধান। এই দুই ধাপে মোট ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর বোরো ধান। বর্তমানে সব উপজেলায় ধান কাটা চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাসসকে বলেন, জেলার হাওরে এ পর্যন্ত ৩৭ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে।