শিরোনাম

খুলনা, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড করেছে মোংলা বন্দর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে নয় মাসে এ রেকর্ড অর্জন করেছে, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্দরটি ২৫ হাজার ২৫০টি ইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হ্যান্ডলিং করা মোট ২১ হাজার ৪৫৬টি ইইউ কন্টেইনারকে ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিনিয়র উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাকরুজ্জামান মঙ্গলবার বাসসকে জানান, সাড়ে নয় মাসে মোট ৬৯৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে ৩৯টি ছিল কন্টেইনার জাহাজ এবং ২২টি গাড়ি আমদানিকারক জাহাজ। এ সময়ে বন্দরটি ৯ হাজার ১৬০টি রিকন্ডিশন্ড যানবাহন আমদানিতেও সহায়তা করেছে।
এই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৮১ লাখ ৮ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৭৬ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তা মাকরুজ্জামান বলেন, চলতি অর্থবছর শেষ হতে দুই মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকতেই বন্দরটি গত বছরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থবছরের শেষ নাগাদ সার্বিক কর্মক্ষমতা আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় তিনটি নতুন অ্যাঙ্কর বার্থ চালু করা হয়েছে। এসব বার্থে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন সুবিধাগুলো এখন ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯.০০ মিটার ড্রাফট পর্যন্ত জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ দেবে।
বর্তমানে বন্দরটি খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, ক্লিঙ্কার, সার, মোটরগাড়ি, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈলবীজ এবং এলপিজি আমদানি করছে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টালি, রেশমি বস্ত্র এবং অন্যান্য সাধারণ পণ্যসামগ্রী।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, জাহাজের আগমন বৃদ্ধি এবং বন্দরের ধারণক্ষমতা সম্প্রসারণ আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।