বাসস
  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০৯

নাটোরে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতার ঐতিহ্য

এক সময় হালখাতায় জমজমাট ব্যবসার অঙ্গনের সেই আয়োজন এখন আর নেই, কতিপয় প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে। ছবি : বাসস

ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন

নাটোর, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : নববর্ষের ঐতিহ্য হালখাতা। পঞ্জিকার অনুসারী ব্যবসায়ীদের জন্যে আজ হালখাতার দিন। মিষ্টিমুখের বিনিময়ে ব্যবসায় দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির দিন আজ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে নাটোরে।

দেশের প্রসিদ্ধ স্বর্ণ ব্যবসার অবস্থান নাটোরে। এক সময় হালখাতায় জমজমাট থাকতো এই ব্যবসার অঙ্গনের অন্তত অর্ধ শত প্রতিষ্ঠান। এখন এই আয়োজন আর নেই। পুরো অঙ্গনে শুধুই দুর্গা জুয়েলার্সে হালখাতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গা জুয়েলার্সের অন্যতম পরিচালক ভবেশ কর্মকার জানান, ছোট পরিসরে এখনো হালখাতার আয়োজন করে যাচ্ছি।

কতদিন এই আয়োজন করতে পারবো-জানি না।

প্রসিদ্ধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমা জুয়েলার্সে এক দশক আগেও জমজমাট হালখাতা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রসিদ্ধ মিষ্টিসহ অন্যান্য খাবার এবং উপহার সামগ্রীতে সমৃদ্ধ ছিলো হালখাতার উপহার প্যাকেট। এখন আর এই আয়োজন নেই।

সত্ত্বাধিকারী নিরেন্দ্র নাথ কর্মকার জানান, স্বর্ণের বাজার খুবই অস্থিতিশীল, প্রতিনিয়ত দর উঠানামা করছে। তাই বাকী বিক্রি নাই বললেই চলে। এ কারণে হালখাতার রেওয়াজও উঠে গেছে প্রায়। তবে আজ আমাদের গনেশ পূজার দিন। এই আনুষ্ঠানিকতা করে বছরের এই শুভক্ষণে নতুন খাতার প্রচলন করা হয়েছে।

নাটোরে ১৪২ বছর ধরে হালখাতার ঐতিহ্য ধরে রাখা স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পোদ্দার ষ্টোর। শহরের ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু নীচাবাজার এলাকায় পোদ্দার ষ্টোরেই আজ হালখাতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সকাল আটটা থেকে চলবে রাত আটটা পর্যন্ত। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পাশের নিজেদের আয়োজনে তৈরী হচ্ছে রসগোল্লা, কালোজাম আর বুন্দিয়া। 

এই ষ্টোরের অন্যতম পরিচালক লক্ষ্মন পোদ্দার বলেন, হালখাতায় মিষ্টিমুখ করানোর রেওয়াজ পাঁচ প্রজন্ম ধরে চলছে। শুধু ব্যবসায়ী দেনাদার নয়, আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন-সবাইকেই আমন্ত্রণ জানাই। আশা করছি, সাতশ’ মানুষের আগমন ঘটবে আজ।

নাটোর সিটি কলেজের সমাজকল্যান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা খাতুন বলেন, আগে হালখাতার দিনে মুদিখানা, জুয়েলার্সসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আমন্ত্রণ আসতো। হালখাতার স্পেশাল মিষ্টি আর গিফট প্যাকেট অনেক প্রত্যাশিত ছিলো।  দু:খের বিষয়, এখন আর কেউ হালখাতা করে না বললেই চলে। তাই আমন্ত্রণও আর আসে না।  
নাটোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নাফ বাসস’কে বলেন, পঞ্জিকা অনুসরণ করে মুলত পাইকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতার রেওয়াজ প্রচলিত থাকলেও, এখন খুব সীমিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা আয়োজন করা হচ্ছে। নববর্ষের সাথে হালখাতার মেলবন্ধন টিকে থাকবে নাকি হারিয়ে যাবে এই ঐতিহ্য, তা সময়ই বলে দেবে।