বাসস
  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৩

সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ পূরণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

এ লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ১৮০ দিনের একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘১৮০ দিনের পরিকল্পনার মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ধাপে-ধাপে তাদের শূন্যপদের তথ্য হালনাগাদ করা, নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তাব তৈরি এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।’

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আয়োজনে ‘গ্রিডলক থেকে শাসনব্যবস্থার নবায়ন: বিপিএসসি সংস্কার প্রতিবেদন’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু ও সম্পন্ন করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল বারী বলেন, শুধু শূন্যপদ চিহ্নিত করাই নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে দীর্ঘদিন শূন্যপদ না থাকে, সে জন্য একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকেও সরকার কাজ করছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে সরকারি সেবার গতি ও মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। বিদ্যমান নিয়োগ পদ্ধতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। সম্প্রতি পিএসসি একটি নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সরকার এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রশ্নফাঁস, খাতা মূল্যায়ন এবং মৌখিক পরীক্ষাকে ঘিরে জনমনে কিছু প্রশ্ন ছিল। তবে বর্তমানে এসব বিষয়ে উন্নতি হয়েছে এবং আরও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ও পদ্ধতি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা যদি নিজে স্বাধীনভাবে কাজ করার মানসিকতা না রাখেন, তাহলে তাকে কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করাতে পারবে না। পিএসসি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনগত সুরক্ষার কারণে এর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।