বাসস
  ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫৪

চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে শিল্পকলায় ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি 

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ষবরণ উপলক্ষে একাডেমিতে সাংস্কৃতিক উৎসব, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য এসব আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ।

গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোক সাহিত্যের নানান উপকরণ এবং অনুষ্ঠানমালায় সাজানো হয়েছে বর্ষবরণের এ আয়োজন। এতে ঢাকঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি উড়ানো, লাটিম খেলা, জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বৈশাখী মেলার বৈচিত্রপূর্ণ আয়োজন থাকছে।  

চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির প্রথম দিন (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। এতে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।  

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

প্রথম দিনের আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-৪ এ উদ্বোধন করা হবে বাংলাদেশ লোকশিল্প প্রদর্শনী। 

এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের এ আয়োজনে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হবে। এরপর পরিবেশিত হবে লোকসংগীত: জারিগান, পটগান ও পুঁথি পাঠ। 

পরের আয়োজনে থাকবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। লোকসাহিত্যের অন্যতম উপাদান যাত্রাপালা: ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ পরিবেশিত হবে একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে। পরিবেশন করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রাদল।

দ্বিতীয় দিন (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দিনের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকঢোলের তালে অংশ নেবেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। পরে অনুষ্ঠিত হবে শতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনা। এছাড়া কবিগান, গাজীর গান, গম্ভীরা, বাউল গান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হবে।

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

তৃতীয় দিন (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক  হেলাল খান অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। 
 
এদিন জাসাসের পরিবেশনায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত পরিচালনায় থাকবেন ইথুন বাবু এবং রাজবাড়ীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোব্যাটিক দলের পরিবেশনায় থাকবে বিশেষ  অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী।

চতুর্থ দিন (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। 

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং মুখ্য আলোচক থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম।  

সাংস্কৃতিক পর্বে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনায় থাকবে ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উৎসব’। সন্ধ্যা ৭টায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে থাকবে পুতুলনাট্য পরিবেশনা: ‘বাছেরের বিয়ে’ পরিবেশনায় বিশ্বরূপা- পুতুলনাচ পার্টি।

১৭ এপ্রিল সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এতে সভাপতিত্ব্ করবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তৃতা করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

সমাপনী দিনের সাংস্কৃতিক পবের্র শুরুতেই ৫০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের কোরিওগ্রাফি পরিবেশিত হবে। লোকসংগীত দলের পরিবেশনায় জালালগীতি, ভাওয়াইয়া, বাউল গান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দলীয় পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও থাকবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং তারকা শিল্পীদের ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা।

সন্ধ্যা ৭টায় পরিবেশিত হবে তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।