শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানার আওতাধীন ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় একটি ফিশিং ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে বিশেষ কৌশলে লুকানো প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) এর একটি অভিযানিক দল। এ ঘটনায় ট্রলারসহ ৯ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর গণমাধ্যম বিষয়ক সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ শনিবার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে- কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি ফিশিং বোট (ট্রলার) যোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম নগরীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি অভিযানিক দল গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়।
কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন ট্রলারটি ঘাটে ভিড়লে র্যাব সদস্যরা সেটিকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- সৈয়দ আলম (৪৫), সুলতান আহম্মদ (৫৫), মো. ইউসুফ (৪৫), মো. কাসিম (৩০), মো. ইসমাইল (৪০), শাহ আলম (৩৫), আজম উল্লাহ (৫৭), মো. ফারুক (২৫) ও ছানাউল্লাহ (৫৭)। এদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে।
র্যাব কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান, পরে ট্রলারটি তল্লাশি করে ইঞ্জিন রুমের পাশে রাখা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে পলিথিনে মোড়ানো ও স্কচটেপ দিয়ে সিল করা অবস্থায় বিশেষ কৌশলে লুকানো ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করে আসছিল। তারা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে স্বল্পমূল্যে ইয়াবা সংগ্রহ করে সমুদ্রপথে ফিশিং ট্রলারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত। অধিক মুনাফার আশায় তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
র্যাব আরও জানায়, ইয়াবার চালানটি অত্যন্ত কৌশলে ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পুরো চালানটি জব্দ করতে সক্ষম হয় র্যাব।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।